স্মার্ট কার্ডের চিপে কী কী তথ্য সেভ করা থাকে? অজানা কিছু তথ্য

আপনার স্মার্ট কার্ডের ছোট্ট চিপটির ভেতরে কেবল নাম-ঠিকানাই নয়, বরং ৩২ ধরণের ব্যক্তিগত ও বায়োমেট্রিক তথ্য সুরক্ষিত থাকে। চিপের ভেতরের অজানা তথ্যগুলো বিস্তারিত জেনে নিন।

স্মার্ট কার্ডের চিপে কী কী তথ্য সেভ করা থাকে? অজানা কিছু তথ্য

বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ হলো জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড। ব্যাংক একাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে মোবাইলের সিম কেনা কিংবা সরকারি-বেসরকারি নানা সেবা গ্রহণ—সব জায়গাতেই এর প্রয়োজন হয়। কার্ডের গায়ে আমাদের নাম, ছবি এবং ঠিকানার মতো কিছু সাধারণ তথ্য লেখা থাকে। কিন্তু কার্ডের ওপরের দিকে থাকা সোনালী রঙের ছোট্ট চিপটিতে আসলে কী আছে, তা কি আমরা সবাই জানি? চলুন জেনে নেওয়া যাক স্মার্ট কার্ডের চিপে কী কী তথ্য সেভ করা থাকে।

দৃশ্যমান তথ্যের বাইরে যা থাকে

সাধারণত একটি স্মার্ট কার্ডের গায়ে আমাদের নাম (বাংলা ও ইংরেজি), পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, রক্তের গ্রুপ এবং ঠিকানা প্রিন্ট করা থাকে। এগুলো যে কেউ সাধারণভাবেই দেখতে পারেন। কিন্তু এর ভেতরের মাইক্রোচিপে একজন নাগরিকের মোট ৩২টি তথ্য ডিজিটালভাবে সুরক্ষিত থাকে, যা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই।

চিপের ভেতরে থাকা অজানা তথ্যগুলো

কার্ড রিডার বা স্ক্যানার ছাড়া চিপের ভেতরের তথ্যগুলো পড়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই মাইক্রোচিপে মূলত আপনার ব্যক্তিগত এবং বায়োমেট্রিক ডেটা সেভ করা থাকে। নিচে চিপের ভেতর থাকা উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্যের তালিকা দেওয়া হলো:

  • বায়োমেট্রিক তথ্য: চিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আপনার বায়োমেট্রিক ডেটা। এখানে আপনার দুই হাতের ১০ আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশের (রেটিনা) স্ক্যান কপি সেভ করা থাকে, যা আপনার পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

  • পেশা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা: আপনি পেশায় কী করছেন এবং আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু, সেই তথ্যও এই চিপে দেওয়া থাকে (যদি আপনি তথ্য নিবন্ধনের সময় তা দিয়ে থাকেন)।

  • বৈবাহিক অবস্থা ও স্বামী/স্ত্রীর নাম: কার্ডের গায়ে অনেক সময় স্বামী বা স্ত্রীর নাম উল্লেখ থাকে না। তবে চিপের ভেতর আপনার বৈবাহিক অবস্থা এবং বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর নাম সেভ করা থাকে।

  • ধর্ম ও সনাক্তকরণ চিহ্ন: নাগরিকের ধর্ম এবং শরীরে থাকা কোনো স্থায়ী সনাক্তকরণ চিহ্ন (যেমন: কাটা দাগ বা জন্মদাগ) চিপের ডেটাবেসে উল্লেখ থাকে।

  • অন্যান্য লাইসেন্স ও নম্বর: আপনার যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট কিংবা টিআইএন (TIN) নম্বর থেকে থাকে, তবে সেগুলোও স্মার্ট কার্ডের চিপে সংযুক্ত থাকে।

  • যোগাযোগের মাধ্যম: আপনার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বা টেলিফোন নম্বরও এখানে সেভ করা থাকে।

  • শারীরিক অবস্থা: নাগরিকের যদি কোনো শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা থাকে, সেই তথ্যও চিপে সংরক্ষণ করা হয়।

তথ্যের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাব্যবস্থা

এতসব ব্যক্তিগত তথ্য একটি ছোট্ট চিপে কতটা নিরাপদ? স্মার্ট কার্ডটি মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। এতে ২৫টির মতো আলাদা নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (Security features) রয়েছে।

চিপের ভেতরের তথ্যগুলো পুরোপুরি এনক্রিপ্টেড বা সংকেতায়িত অবস্থায় থাকে। ফলে নির্বাচন কমিশন বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট কার্ড রিডার মেশিন ছাড়া সাধারণ কোনো কম্পিউটারে বা ডিভাইসে এই তথ্যগুলো রিড করা বা পড়া সম্ভব নয়। এর ফলে অন্যের হাতে আপনার কার্ড পড়লেও চিপের ভেতরের ব্যক্তিগত তথ্য খুব সহজেই চুরি হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।

স্মার্ট কার্ড শুধু একটি প্লাস্টিকের টুকরো নয়, এটি নাগরিক হিসেবে আপনার ডিজিটাল পরিচয়ের একটি সুরক্ষিত ভাণ্ডার। তাই নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই কার্ডটি যত্ন সহকারে ব্যবহার করা উচিত।

Share

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0