বয়স ১৮ হওয়ার আগেই নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ আছে কি?

বয়স ১৮ হওয়ার আগেই কি ভোটার হওয়া বা জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া সম্ভব? বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে নতুন ভোটার ও এনআইডি করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বিস্তারিত তথ্য জানুন।

বয়স ১৮ হওয়ার আগেই নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ আছে কি?

আমাদের অনেকের মনেই একটা সাধারণ প্রশ্ন থাকে— বয়স ১৮ পূর্ণ হওয়ার আগেই কি নতুন ভোটার হওয়া বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) পাওয়া সম্ভব? বিশেষ করে যাদের বয়স ১৬ বা ১৭, তাদের বিভিন্ন কাজে এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন পড়ে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এই বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলি নিয়ে বিস্তারিত এবং সঠিক তথ্য জানব।

১৮ বছরের আগে কি ভোটার হওয়া যায়?

সহজ এবং সরাসরি উত্তর হলো— হ্যাঁ, বয়স ১৮ হওয়ার আগেই আপনি নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেজে নিজের তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন এবং একটি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) পেতে পারবেন। তবে এখানে একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বুঝতে হবে। ১৮ বছরের আগে আবেদন করলে আপনি এনআইডি কার্ড পাবেন, কিন্তু আপনি ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন না। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একজন নাগরিক ভোট দেওয়ার অধিকার পান ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর।

তাই আপনি যদি ১৬ বা ১৭ বছর বয়সে নিবন্ধন করেন, তবে আপনার নামে এনআইডি ইস্যু হবে। পরবর্তীতে আপনার বয়স যখন ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তখন জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়ে যাবে। এর জন্য আপনাকে দ্বিতীয়বার কোনো আবেদন করতে হবে না।

১৮ বছরের আগে এনআইডি কার্ড কেন করবেন?

বর্তমানে বাংলাদেশের যেকোনো সরকারি ও বেসরকারি সেবা পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা প্রায় বাধ্যতামূলক। ১৮ বছরের আগেই এনআইডি কার্ড করে রাখলে আপনি যেসব সুবিধা পাবেন:

  • পাসপোর্ট তৈরি করতে পারবেন।

  • কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন: বিকাশ, নগদ) অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।

  • ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য লার্নার্স করতে পারবেন।

নতুন ভোটার বা এনআইডি করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১৮ বছর হওয়ার আগে বা পরে, নতুন এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে সাধারণত একই ধরনের কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। আবেদন করার আগে নিচের কাগজপত্রগুলো সংগ্রহে রাখুন:

  • অনলাইন করা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি (অবশ্যই বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় হতে হবে)।

  • বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপি (জেএসসি, এসএসসি বা সমমান— যদি থাকে)।

  • নাগরিকত্ব সনদ (ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত)।

  • রক্তের গ্রুপের মেডিকেল রিপোর্ট।

  • বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিলের কপি (ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে)।

আবেদন করার পদ্ধতি

বর্তমানে ঘরে বসেই অনলাইনে নতুন ভোটার বা এনআইডির জন্য আবেদন করা যায়। পদ্ধতিটি বেশ সহজ: ১. প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট services.nidw.gov.bd-এ প্রবেশ করুন। ২. 'রেজিস্টার' বা 'নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন' অপশনে ক্লিক করুন। ৩. আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্ম তারিখ এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। ৪. ফর্মে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পিতা-মাতার তথ্য, এবং বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। ৫. তথ্য পূরণ শেষে ফর্মটি সাবমিট করুন এবং পিডিএফ (PDF) কপিটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন। ৬. প্রিন্ট করা ফর্মে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির স্বাক্ষর নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আপনার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে জমা দিন। ৭. নির্বাচন অফিস থেকে আপনাকে ছবি তোলা এবং আঙুলের ছাপ (Biometrics) দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।

ছবি ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার কিছুদিন পরেই আপনি অনলাইন থেকে আপনার এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করে সব কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

১৮ বছর বয়স হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে, বয়স ১৬ বছর পার হলেই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আপনার নাগরিক সুবিধাগুলো পেতে কোনো বাধা থাকবে না, আর সময়মতো ভোটার তালিকায় নামও উঠে যাবে।

Share

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0