বাংলাদেশ পাসপোর্ট ফি ২০২৬: ই-পাসপোর্ট করার খরচ ও জমা দেওয়ার নিয়ম (Passport Fees BD)

২০২৬ সালের নতুন পাসপোর্ট ফি কত? জানুন ৪৮ ও ৬৪ পাতার ই-পাসপোর্ট খরচ, passport fee bd জমা দেওয়ার নিয়ম এবং ডেলিভারি সময়। Bangladesh e-Passport fees detail guide.

বাংলাদেশ পাসপোর্ট ফি ২০২৬: ই-পাসপোর্ট করার খরচ ও জমা দেওয়ার নিয়ম (Passport Fees BD)

আপনি কি নতুন ই-পাসপোর্ট করতে চাচ্ছেন ? আবেদনের আগে সবার প্রথমে যে প্রশ্নটি আসে তা হলো—বর্তমানে পাসপোর্ট ফি (Passport Fees) কত? পাতার সংখ্যা এবং মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে Bangladesh passport fee ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

সঠিক ফি না জেনে ব্যাংকে টাকা জমা দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী passport fee bd, টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম এবং পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ই-পাসপোর্ট ফি কত? (বিস্তারিত তালিকা)

বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট মূলত দুই ধরনের মেয়াদে (৫ বছর ও ১০ বছর) এবং দুই ধরনের পৃষ্ঠায় (৪৮ পাতা ও ৬৪ পাতা) পাওয়া যায়। নিচে ভ্যাটসহ (15% VAT Included) সম্পূর্ণ খরচের তালিকা দেওয়া হলো:

১. ৪৮ পাতার পাসপোর্ট ফি (48 Pages)

যারা সাধারণ ভ্রমণকারী বা খুব বেশি বিদেশ ভ্রমণ করেন না, তাদের জন্য ৪৮ পাতার পাসপোর্টই যথেষ্ট।

মেয়াদ (Validity) ডেলিভারি ধরণ (Delivery Type) সরকারি ফি (টাকা) সম্ভাব্য সময়
৫ বছর রেগুলার (Regular) ৪,০২৫ টাকা ১৫-২১ দিন
এক্সপ্রেস (Express) ৬,৩২৫ টাকা ৭-১০ দিন
সুপার এক্সপ্রেস ৮,৬২৫ টাকা ২ দিন
১০ বছর রেগুলার (Regular) ৫,৭৫০ টাকা ১৫-২১ দিন
এক্সপ্রেস (Express) ৮,০৫০ টাকা ৭-১০ দিন
সুপার এক্সপ্রেস ১০,৩৫০ টাকা ২ দিন

২. ৬৪ পাতার পাসপোর্ট ফি (64 Pages)

যারা ঘনঘন ব্যবসায়িক কাজে বিদেশ যান, তাদের জন্য ৬৪ পাতার পাসপোর্ট সুবিধাজনক।

মেয়াদ (Validity) ডেলিভারি ধরণ (Delivery Type) সরকারি ফি (টাকা) সম্ভাব্য সময়
৫ বছর রেগুলার (Regular) ৬,৩২৫ টাকা ১৫-২১ দিন
এক্সপ্রেস (Express) ৮,৬২৫ টাকা ৭-১০ দিন
সুপার এক্সপ্রেস ১২,০৭৫ টাকা ২ দিন
১০ বছর রেগুলার (Regular) ৮,০৫০ টাকা ১৫-২১ দিন
এক্সপ্রেস (Express) ১০,৩৫০ টাকা ৭-১০ দিন
সুপার এক্সপ্রেস ১৩,৮০০ টাকা ২ দিন

(বিদ্র: সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি শুধুমাত্র ই-পাসপোর্টের জন্য এবং যাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন আগে থেকেই ক্লিয়ার আছে বা রিনিউ করছেন তাদের জন্য প্রযোজ্য।)


পাসপোর্ট ফি কীভাবে এবং কোথায় জমা দেবেন?

Bangladesh passport fee জমা দেওয়া এখন অনেক সহজ। আপনি ঘরে বসে অনলাইনে অথবা সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিতে পারেন।

পদ্ধতি ১: এ-চালান (A-Challan) বা অনলাইন পেমেন্ট

সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজ মাধ্যম হলো 'এ-চালান'।

  • অ্যাপ: 'Ekpay' অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

  • মোবাইল ব্যাংকিং: বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad), বা রকেটের মাধ্যমে সরাসরি ফি পরিশোধ করা যায়।

  • কার্ড: ভিসা বা মাস্টারকার্ড ব্যবহার করেও পেমেন্ট করা যায়।

পদ্ধতি ২: সরাসরি ব্যাংকে জমা (Bank Draft)

আপনি যদি অনলাইনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন, তবে নিচের ব্যাংকগুলোর যেকোনো শাখায় গিয়ে টাকা জমা দিতে পারবেন:

  1. সোনালী ব্যাংক (Sonali Bank)

  2. ব্যাংক এশিয়া (Bank Asia)

  3. ঢাকা ব্যাংক (Dhaka Bank)

  4. ওয়ান ব্যাংক (One Bank)

  5. প্রিমিয়ার ব্যাংক (Premier Bank)

  6. ট্রাস্ট ব্যাংক (Trust Bank)

সতর্কতা: ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার সময় অবশ্যই আপনার নাম এবং এনআইডি নম্বর সঠিকভাবে লিখবেন। টাকা জমার স্লিপটি সযত্নে রাখবেন, এটি পাসপোর্ট অফিসে দেখাতে হবে।


কাদের সাহায্যে পাসপোর্ট আবেদন করবেন?

পাসপোর্ট করার জন্য এখন আর কোনো দালাল বা এজেন্সির সাহায্যের প্রয়োজন নেই। সরকার প্রক্রিয়াটি এতটাই সহজ করেছে যে আপনি নিজের স্মার্টফোন বা কম্পিউটার দিয়েই আবেদন করতে পারেন।

১. অনলাইন আবেদন: www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ফর্ম পূরণ করুন।

২. পেমেন্ট: উপরে উল্লেখিত নিয়মে passport fee bd পরিশোধ করুন।

৩. বায়োমেট্রিক: নির্দিষ্ট তারিখে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তুলুন।

যদি আপনি প্রযুক্তিগত বিষয়ে দুর্বল হন, তবে নিকটস্থ কোনো বিশ্বস্ত কম্পিউটার দোকান বা 'ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার' (UDC) থেকে সহায়তা নিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, দালালের হাতে অতিরিক্ত টাকা দেবেন না।


পাসপোর্ট ফি ও ডেলিভারি নিয়ে জরুরি টিপস 

  • জরুরি পাসপোর্ট: আপনার যদি খুব দ্রুত পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়, তবে Super Express Delivery সিলেক্ট করুন। খরচ একটু বেশি হলেও মাত্র ২ কর্মদিবসে পাসপোর্ট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • পাসপোর্ট রিনিউ: রিনিউ করার ক্ষেত্রেও ফি একই। তবে রিনিউ ইউজারদের পুলিশ ভেরিফিকেশন না লাগলে তারা দ্রুত পাসপোর্ট পেয়ে যান।

  • ছাত্র ও সরকারি চাকরিজীবী: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি (NOC) থাকলে এক্সপ্রেস বেনিফিট পাওয়া যায়, তবে ফি এর নিয়ম সাধারণ নাগরিকের মতোই।


সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের ফি কি আলাদা?

উত্তর: হ্যাঁ, ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের ফি ৫ বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি, তবে এটি সাশ্রয়ী কারণ বারবার রিনিউ করার ঝামেলা থাকে না।

প্রশ্ন: পাসপোর্ট ফি কি ফেরতযোগ্য?

উত্তর: না, একবার ব্যাংকে বা অনলাইনে passport fees জমা দিলে তা আর ফেরত পাওয়া যায় না। তবে এই জমা স্লিপ দিয়ে ৬ মাসের মধ্যে আবেদন করা যায়।

প্রশ্ন: ই-পাসপোর্ট করতে কি দালালের টাকা লাগে?

উত্তর: একদমই না। আপনি শুধু সরকারি ফি ব্যাংকে জমা দেবেন। এর বাইরে কাউকে এক টাকাও দেওয়ার প্রয়োজন নেই।


আশা করি, ২০২৬ সালের নতুন Bangladesh passport fee সম্পর্কে আপনার ধারণা এখন পরিষ্কার। অযথা দালালের চক্রে পড়ে বেশি টাকা খরচ করবেন না। সঠিক নিয়মে ফি জমা দিন এবং ঝামেলাহীনভাবে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।

পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত যেকোনো আপডেটের জন্য infoearly.com এর সাথেই থাকুন।

Share

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0