১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? ফি ও কাগজপত্রের তালিকা ২০২৬ (Passport Banate Ki Ki Lage)
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? জানুন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বয়সসীমা এবং ২০২৬ সালের নতুন ফি। Passport Banate Ki Ki Lage এবং E-Passport Documents চেকলিস্ট।
বারবার পাসপোর্ট রিনিউ বা নবায়ন করার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে সবাই এখন ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে চান। কিন্তু আপনি কি জানেন, চাইলেই সবাই ১০ বছরের জন্য পাসপোর্ট পাবেন না? এর জন্য নির্দিষ্ট বয়সসীমা এবং কাগজপত্রের ভিন্নতা রয়েছে।
অনেকেই ইন্টারনেটে "passport banate ki ki lage" বা "পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে" লিখে সার্চ করেন, কিন্তু সঠিক চেকলিস্ট পান না। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আবেদনের নিয়ম বা পদ্ধতি নিয়ে কথা বলব না, সরাসরি জানব—১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্যতা, নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং লেটেস্ট সরকারি ফি সম্পর্কে।
১. ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট কারা পাবেন? (যোগ্যতা)
ই-পাসপোর্টের নিয়মানুযায়ী, পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর হবে নাকি ১০ বছর, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আবেদনকারীর বয়সের ওপর।
-
১৮ বছরের বেশি: আপনার বয়স যদি ১৮ বছর বা তার বেশি হয়, তবেই আপনি ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
-
১৮ বছরের নিচে: শিশুদের চেহারা দ্রুত পরিবর্তন হয়, তাই তাদের জন্য ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দেওয়া হয় না। তাদের জন্য শুধুমাত্র ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট প্রযোজ্য।
-
৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে: ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্যও সাধারণত ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট সুপারিশ করা হয়, তবে তারা চাইলে ১০ বছরের জন্যও আবেদন করতে পারেন।
২. পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? (E-Passport Documents Checklist)
পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক (ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট) দিতে যাওয়ার আগে নিচের কাগজপত্রগুলো ফাইলে রেডি করে নিয়ে যাবেন। একটি কাগজ মিস হলে আপনাকে ফিরে আসতে হতে পারে।
ক. সাধারণ নাগরিকদের জন্য (বাধ্যতামূলক):
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর মূল এনআইডি কার্ড এবং এর ফটোকপি। (১৮ বছরের নিচে হলে জন্ম নিবন্ধন লাগবে)। ২. আগের পাসপোর্ট (যদি থাকে): আপনার যদি আগে এমআরপি (MRP) বা হাতে লেখা পাসপোর্ট থাকে, তবে তার মূল কপি এবং ফটোকপি। ৩. নাগরিক সনদ: স্থানীয় চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিকত্ব সনদ বা চারিত্রিক সনদ। ৪. ঠিকানার প্রমাণ: বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে গত ৩ মাসের বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিলের কপি। (ভাড়াটিয়া হলে বাড়িওয়ালার বিলের কপি)।
খ. পেশাজীবীদের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র:
-
সরকারি চাকরিজীবী: জিও (GO) অথবা এনওসি (NOC) – এটি দিলে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না।
-
বেসরকারি চাকরিজীবী: অফিস আইডি কার্ড বা নিয়োগপত্র (Appointment Letter)।
-
ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স (Trade License)।
-
ছাত্র-ছাত্রী: স্টুডেন্ট আইডি কার্ড অথবা স্কুল/কলেজের বেতন পরিশোধের রসিদ।
গ. পারিবারিক তথ্যের জন্য:
-
বৈবাহিক অবস্থা: পাসপোর্টে স্বামী বা স্ত্রীর নাম যোগ করতে চাইলে কাবিননামা (Nikah Nama) বা ম্যারেজ সার্টিফিকেট অবশ্যই লাগবে।
-
পিতামাতা: বাবা-মায়ের এনআইডি কার্ডের কপি (অনেক সময় ভেরিফিকেশনের জন্য চায়)।
৩. ই-পাসপোর্ট ফি ২০২৬ (Passport Fees)
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের ফি পৃষ্ঠার সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালের ভ্যাটসহ (১৫%) নির্ধারিত সরকারি ফি নিচে দেওয়া হলো:
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদ:
ভ্রমণকারীদের জন্য এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়।
-
রেগুলার ডেলিভারি (১৫-২১ দিন): ৫,৭৫০ টাকা।
-
এক্সপ্রেস ডেলিভারি (৭-১০ দিন): ৮,০৫০ টাকা।
-
সুপার এক্সপ্রেস (২ দিন): ১০,৩৫০ টাকা।
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদ:
যারা ঘনঘন বিদেশ ভ্রমণ করেন বা ব্যবসায়ী, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।
-
রেগুলার ডেলিভারি: ৮,০৫০ টাকা।
-
এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১০,৩৫০ টাকা।
-
সুপার এক্সপ্রেস: ১৩,৮০০ টাকা।
(বি:দ্র: সরকারি ফি যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। পেমেন্ট শুধুমাত্র এ-চালান, ব্যাংক ড্রাফট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ/রকেট) মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।)
৪. পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ডেলিভারি
-
নতুন পাসপোর্ট: আপনি যদি জীবনে প্রথমবার পাসপোর্ট করেন, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক। পুলিশ আপনার দেওয়া বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় তদন্ত করে রিপোর্ট দেবে।
-
রি-ইস্যু: যদি আগের এমআরপি পাসপোর্ট থাকে এবং তথ্যের কোনো পরিবর্তন না করেন, তবে সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না।
৫. ছবি তোলার দিনের টিপস
কাগজপত্র জমা দেওয়ার দিন ছবি তোলা হয়।
-
পোশাক: সাদা বা খুব হালকা রঙের জামা না পরাই ভালো, কারণ ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা থাকে। গাঢ় রঙের ফরমাল পোশাক (শার্ট/স্যুট/সালোয়ার কামিজ) পরলে ছবি ভালো আসে।
-
চশমা: ছবি তোলার সময় চশমা বা সানগ্লাস পরা যাবে না।
-
লেন্স: কন্টাক্ট লেন্স পরে ছবি তোলা নিষেধ।
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট হাতে পাওয়া মানে আগামী এক দশক নিশ্চিন্ত থাকা। আপনার বয়স যদি ১৮-এর বেশি হয়, তবে উপরের তালিকা অনুযায়ী কাগজপত্র গুছিয়ে এবং ফি জমা দিয়ে পাসপোর্ট অফিসে চলে যান। কোনো দালালের প্রয়োজন নেই, সঠিক কাগজ থাকলে কাজ হবে সহজেই। InfoEarly-র সাথেই থাকুন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অংশ হোন।
Share
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0