জাল বা ভুয়া ভোটার আইডি কার্ড চেনার সহজ কিছু উপায়
আপনার ভোটার আইডি কার্ডটি আসল নাকি নকল তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। খুব সহজে অনলাইনে, এসএমএসের মাধ্যমে বা বারকোড স্ক্যান করে জাল এনআইডি কার্ড চেনার উপায়গুলো জেনে নিন।
বর্তমান সময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে জমি কেনাবেচা, সিম কেনা বা যেকোনো দাপ্তরিক কাজে ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা অনেক সময় জাল বা ভুয়া ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করে। তাই যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির আগে বা নিজের সুরক্ষার জন্য একটি ভোটার আইডি কার্ড আসল না নকল, তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। খুব সাধারণ কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনি নিজেই এটি শনাক্ত করতে পারবেন।
এসএমএসের মাধ্যমে আইডি কার্ড যাচাই করা যায় খুব দ্রুত। যেকোনো মোবাইল অপারেটরের নম্বর থেকে মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন NID। এরপর একটি স্পেস দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা ভোটার নিবন্ধন ফর্ম নম্বরটি লিখুন। এরপর আবার স্পেস দিয়ে জন্মতারিখ লিখুন দিন-মাস-বছর ফরম্যাটে। মেসেজটি পাঠিয়ে দিন ১০৫ নম্বরে। ফিরতি মেসেজে নির্বাচন কমিশন থেকে আপনার কার্ডের সঠিক তথ্য চলে আসবে। কার্ডটি ভুয়া হলে কোনো সঠিক তথ্য আসবে না।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অনলাইনে কার্ডের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়। services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট ঘরে এনআইডি নম্বর এবং জন্মতারিখ বসিয়ে ক্যাপচা পূরণ করতে হয়। সঠিক তথ্য দিলে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে থাকা ব্যক্তির ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে। কার্ডের তথ্যের সাথে ওয়েবসাইটের তথ্য না মিললে বুঝতে হবে কার্ডটি জাল।
ভোটার আইডি কার্ডের পেছনে থাকা বারকোড স্ক্যান করেও এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। গুগল প্লে স্টোর থেকে যেকোনো কিউআর কোড বা বারকোড স্ক্যানার অ্যাপ ডাউনলোড করে আইডি কার্ডের পেছনের কোডটি স্ক্যান করতে হবে। আসল কার্ড হলে স্ক্যান করার সাথে সাথে ওই ব্যক্তির নাম, পিতা-মাতার নাম, রক্তের গ্রুপ এবং ঠিকানাসহ কিছু মৌলিক তথ্য স্মার্টফোনের স্ক্রিনে দেখা যাবে। জাল কার্ডের ক্ষেত্রে এই বারকোডটি সাধারণত কাজ করে না বা ভুল তথ্য দেখায়।
স্মার্ট কার্ডের ক্ষেত্রে কিছু বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখেও আসল-নকল পার্থক্য করা যায়। আসল স্মার্ট কার্ডের প্রিন্ট কোয়ালিটি অত্যন্ত উন্নত মানের হয় এবং এর প্লাস্টিক বেশ শক্ত থাকে। কার্ডের ওপর আলোর প্রতিফলন ঘটলে জাতীয় স্মৃতিসৌধ বা পাখির জলছাপ দেখা যায়, যা নকল কার্ডে নিখুঁতভাবে তৈরি করা সম্ভব হয় না। এছাড়া আসল কার্ডের চিপ বা সিমের মতো অংশটি মসৃণভাবে বসানো থাকে।
যেকোনো আর্থিক বা আইনি লেনদেনের আগে এই পদ্ধতিগুলোর যেকোনো একটি ব্যবহার করে পরিচয়পত্রের সত্যতা নিশ্চিত করে নিলে বড় ধরনের প্রতারণার হাত থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়।
Share
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0