প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিদেশ থেকে ভোটার আইডি কার্ড করার এ টু জেড গাইড
প্রবাসী বাংলাদেশিরা কীভাবে বিদেশ থেকে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করবেন? প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সম্পূর্ণ নিয়মকানুন বিস্তারিত জানুন।
প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু দীর্ঘকাল বিদেশে থাকার কারণে অনেকেই দেশে এসে সময়মতো জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড করতে পারেন না। দেশে জমিজমা কেনা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, এমনকি একটি সিম কার্ড কিনতে গেলেও এখন এনআইডি (NID) কার্ড লাগে।
প্রবাসীদের এই ভোগান্তি দূর করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বিদেশ থেকেই অনলাইনে এনআইডি কার্ড করার সুবিধা চালু করেছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানব, কীভাবে একজন প্রবাসী বিদেশ থেকে বসেই ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং এর জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে।
প্রবাসীদের এনআইডি কার্ড কেন জরুরি?
বিদেশে থাকলেও দেশে আপনার বিভিন্ন কাজের জন্য এনআইডি কার্ড থাকাটা খুব দরকারি। যেমন:
-
দেশে নিজের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সুবিধা নেওয়া।
-
জায়গা-জমি কেনাবেচা বা রেজিস্ট্রেশন করা।
-
পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন পাসপোর্ট করা।
-
দেশে ফিরে কোনো ব্যবসা শুরু করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স করা।
কোন কোন দেশ থেকে আবেদন করা যায়?
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে এই সেবা চালু করছে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, মালয়েশিয়া, কুয়েতসহ বেশ কিছু দেশের প্রবাসীরা সরাসরি ওই দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে এই সুবিধা পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশেও এই সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
বিদেশ থেকে আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?
আবেদন করার আগে আপনার কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে রেডি রাখতে হবে। সাধারণত নিচের কাগজগুলো প্রয়োজন হয়:
-
পাসপোর্টের কপি: বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্টের স্ক্যান কপি।
-
ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট: আপনি যে দেশে আছেন, সেখানকার বৈধ ভিসা, ইকামার কপি অথবা ওয়ার্ক পারমিট। (যাঁরা দ্বৈত নাগরিক, তাঁদের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ বা গ্রিন কার্ড)।
-
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: এসএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
-
জন্ম নিবন্ধন: অনলাইন করা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
-
রক্তের গ্রুপের প্রমাণপত্র: রক্তের গ্রুপ উল্লেখ আছে এমন মেডিকেল রিপোর্ট।
-
ঠিকানার প্রমাণ: বাংলাদেশে আপনার স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে পরিবারের যেকোনো সদস্যের নামে থাকা বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিলের কপি।
-
পরিচয়ের প্রমাণ: পিতা, মাতা, স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের কপি।
-
নাগরিকত্ব সনদ: আপনার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিকত্ব সনদপত্র।
অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম
কাগজপত্র সব গুছিয়ে নেওয়ার পর খুব সহজেই অনলাইনে আবেদন করা যায়। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টালের ওয়েবসাইটে (
ছবি ও আঙুলের ছাপ (Biometrics) দেওয়ার নিয়ম
অনলাইনে আবেদন করার পর আপনার কাজ শেষ নয়। আবেদনটি নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আপনাকে ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ছবি তোলা এবং আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ দেওয়ার জন্য ডাকা হবে।
আপনাকে নির্ধারিত দিনে আপনার দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে আসতে হবে। এরপর আপনার কার্ডটি তৈরি হয়ে গেলে দূতাবাস থেকেই আপনি স্মার্ট এনআইডি কার্ডটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
বিদেশ থেকে ভোটার আইডি কার্ড করার প্রক্রিয়াটি এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। ছুটি নিয়ে দেশে আসার জন্য অপেক্ষা না করে, আপনার হাতের স্মার্টফোন বা কম্পিউটার দিয়েই আজই আবেদন করে ফেলতে পারেন। এতে আপনার মূল্যবান সময় বাঁচবে এবং দেশের যেকোনো আইনি ও দাপ্তরিক কাজে আর কোনো আটকে থাকতে হবে না।
Share
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0