ভোটার আইডি কার্ডে নিজের বা পিতা-মাতার নামের বানান সংশোধন করার নিয়ম

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে নিজের, পিতা বা মাতার নামের বানান ভুল থাকলে অনলাইনে কীভাবে তা সংশোধন করবেন, কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং ফি কত তার বিস্তারিত নিয়মাবলি।

ভোটার আইডি কার্ডে নিজের বা পিতা-মাতার নামের বানান সংশোধন করার নিয়ম

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) কার্ড আমাদের নাগরিকত্বের প্রধান প্রমাণপত্র। কিন্তু অনেক সময় তথ্য সংগ্রহকারীদের ভুল বা নিজেদের অসতর্কতার কারণে ভোটার আইডি কার্ডে নিজের নাম, কিংবা পিতা-মাতার নামের বানানে ভুল চলে আসে। এই ভুল নামের কারণে পরবর্তীতে পাসপোর্ট করা, জমি রেজিস্ট্রি, ব্যাংক একাউন্ট খোলা বা অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কাজে নানাবিধ জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।

তবে আশার কথা হলো, এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। আপনি চাইলে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ডের নামের বানান সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য সঠিক নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।

নামের বানান সংশোধনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?

সংশোধনের ধরন অনুযায়ী আপনাকে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র অনলাইনে আপলোড করতে হবে। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

নিজের নামের বানান সংশোধনের ক্ষেত্রে:

  • আপনার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের (Birth Certificate) মূল কপির রঙিন স্ক্যান কপি।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (যেমন: এসএসসি/এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সার্টিফিকেট)। যারা লেখাপড়া করেননি, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।

  • পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা টিন (TIN) সার্টিফিকেটের কপি (যদি থাকে)।

  • কাবিননামা বা বিবাহ নিবন্ধনের কপি (বিবাহিতদের ক্ষেত্রে)।

পিতা বা মাতার নামের বানান সংশোধনের ক্ষেত্রে:

  • আপনার পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) মূল কপির রঙিন স্ক্যান কপি।

  • আপনার নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা জন্ম নিবন্ধন (যেখানে আপনার পিতা-মাতার নামের সঠিক বানান লেখা আছে)।

  • আপনার ভাই-বোনদের (যদি থাকে) জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, যেখানে পিতা-মাতার নাম সঠিকভাবে লেখা আছে।

সংশোধন ফি কত?

বর্তমানে এনআইডি কার্ডের তথ্য প্রথমবার সংশোধনের জন্য সরকারি ফি ২৩০ টাকা (ভ্যাট সহ)। আবেদন করার সময় মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট বা নগদ) ব্যবহার করে এই ফি জমা দিতে হয়।

অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম

নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি সহজেই নামের বানান সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন:

ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও লগইন প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট (services.nidw.gov.bd) ভিজিট করুন। আপনার যদি একাউন্ট করা থাকে, তাহলে এনআইডি নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। একাউন্ট না থাকলে 'রেজিস্টার' অপশন থেকে নতুন একাউন্ট খুলে নিন।

ধাপ ২: প্রোফাইল এডিট লগইন করার পর আপনার ড্যাশবোর্ডে থাকা 'প্রোফাইল' (Profile) অপশনে ক্লিক করুন। এরপর উপরের দিকে ডান কোণায় 'এডিট' (Edit) বা সম্পাদনা বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩: সঠিক তথ্য প্রদান এবার একটি ফর্ম আসবে। আপনি যে তথ্যটি (নিজের নাম, পিতার নাম বা মাতার নাম) সংশোধন করতে চান, তার পাশের বক্সে টিক দিন। এরপর আপনার প্রমাণপত্র অনুযায়ী নামের সঠিক বানানটি নির্ভুলভাবে লিখে দিন এবং 'পরবর্তী' বাটনে ক্লিক করুন। এখানে আপনার বর্তমান ভুল তথ্য এবং সংশোধিত নতুন তথ্য পাশাপাশি দেখতে পাবেন।

ধাপ ৪: ফি পরিশোধ এই ধাপে আপনাকে সংশোধন ফি জমা দিতে হবে। বিকাশ বা রকেট অ্যাপের 'পে বিল' থেকে NID Service সিলেক্ট করে আপনার এনআইডি নম্বর দিয়ে ফি জমা দিন। ফি জমা হলে ওয়েবসাইটের পেজে তা আপডেট হবে।

ধাপ ৫: কাগজপত্র আপলোড এবার আপনার সংশোধনের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রগুলোর (জন্ম নিবন্ধন, সার্টিফিকেট ইত্যাদি) রঙিন স্ক্যান কপি আপলোড করুন। মনে রাখবেন, ছবি বা ফাইলগুলো যেন স্পষ্ট এবং পাঠযোগ্য হয়।

ধাপ ৬: চূড়ান্ত সাবমিট সব তথ্য এবং আপলোড করা ফাইলগুলো আরেকবার ভালোভাবে চেক করে নিন। সবকিছু ঠিক থাকলে আবেদনটি 'সাবমিট' করে দিন। সাবমিট করার পর একটি পিডিএফ ফর্ম পাবেন, সেটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে আপনার কাছে সংরক্ষণ করুন।

আবেদনটি সাবমিট করার পর নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আপনার দেওয়া তথ্য ও প্রমাণপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করবেন। সবকিছু সঠিক থাকলে আপনার আবেদনটি অনুমোদন করা হবে এবং আপনার মোবাইলে একটি এসএমএস (SMS) আসবে। মেসেজ আসার পর আপনি অনলাইন থেকেই আপনার সংশোধিত এনআইডি কার্ডের কপি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

Share

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0